ইসলাম মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ধর্ম। কিন্তু ইতিহাসের নির্যাসে আমরা দেখেছি, কিছু মানুষ প্রাচীন যুগের দাস প্রথার সঙ্গে নিজের সুবিধা মেলাতে চেয়েছেন। বিশেষ করে দাসী বা খমারি নারীর সঙ্গে স’হবাসের বিষয়টি আজও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। তবে ইসলামের স্পষ্ট বিধান এই বিষয়ে কোনও দ্বিমত রাখে না।
কুরআন ও সুন্নাহতে আল্লাহতায়ালা হুকুম দিয়েছেন, মুক্ত নারী বা দাসীর প্রতি সদাচরণ বজায় রাখতে হবে। দাসী থাকলে তার সঙ্গে সহবাস কেবল তখনই বৈধ, যদি সে স্বেচ্ছায় এবং ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী আচরণ করে। কোনো জোর, অত্যাচার বা অনৈতিক প্ররোচনা ইসলামে সমর্থিত নয়।
ইতিহাসে আমরা দেখি, প্রাচীন আরব সমাজে দাসী থাকা স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু ইসলামের বিধান এসেছে মানবিক মর্যাদা রক্ষার জন্য। দাসীকে অবমাননা করা, শোষণ করা বা অনৈতিকভাবে ব্যবহার করা সরাসরি ইসলাম বিরোধী। নবী করিম (সা.) নিজের জীবদ্দশায় সবসময় দাস ও কর্মচারীর প্রতি ন্যায়, সম্মান এবং সদয় আচরণ প্রচলন করেছিলেন।
আজকের দিনে, দাস বা অধীনস্ত নারীর সঙ্গে সহবাসের প্রথা মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। ইসলামের বিধানও স্পষ্ট—মানবতার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। তাই এটি কেবল আইনগত নয়, নৈতিক এবং ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার:
ইসলাম দাস বা অধীনস্ত নারীর প্রতি সহমর্মিতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে। সহবাসের অনুমতি কেবল বৈধ, সম্মতি ও মানবিক মর্যাদা রক্ষা করলে। ইতিহাসের প্রথা যেটি কেবল সামাজিক নিয়ম ছিল, সেটিকে আজকের মানদণ্ডে প্রয়োগ করা অগ্রহণযোগ্য। ধর্মের মূল শিক্ষাই নির্দেশ দেয়—সম্মান, ন্যায় ও মানবিক মর্যাদা সর্বোপরি।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন